আজ- বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Shotto Barta Logo

শিরোনাম

নাটোরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত !

সত্যবার্তা ডেস্ক:
নাটোরে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে । র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ।
নাটোর জেলার সাতটি উপজেলায় ৭ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসারই নারী ।আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
নারী দিবসে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার অনন্য উদাহরণ নাটোর জেলা! এই জেলায় উপজেলা রয়েছে সাতটি। আর সব কয়টির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নারী। বাংলাদেশে এই প্রথম জেলা নাটোর, যেখানে প্রতিটি উপজেলায় ইউএনওর দায়িত্বে রয়েছেন নারীরা। জীবনানন্দ দাশ তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ কবিতায় লিখেছিলেন “আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।” আজ যেন জীবনানন্দ সেই বনলতার মতো নাটোর সাত উপজেলার সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ৭ জন নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলায় মাহমুদা খাতুনের পদায়নের মাধ্যমে নাটোরে শতভাগ উপজেলা পায় নারী ইউএনও। মাহমুদা খাতুনের পাশাপাশি নাটোর সদর উপজেলায় সারমিনা সাত্তার, নলডাঙ্গা উপজেলায় রোজিনা আক্তার, বাগাতিপাড়া উপজেলায় নীলুফা সরকার, লালপুর উপজেলায় শামীমা সুলতানা, বড়াইগ্রাম উপজেলায় মারিয়াম খাতুন এবং গুরুদাসপুর উপজেলায় শ্রাবণী রায় দায়িত্ব পালন করছেন। নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নাটোর পেয়েছে ৭ জন নারী ইউএনও।
বাংলাদেশের প্রথম জেলা নাটোর, যেখানে সবগুলো উপজেলাতেই নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেধা, দক্ষতা ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের একাগ্রতা নিয়ে পুরুষের সঙ্গে সমতালে কাজ করে যাচ্ছেন নারীরা। জেলা প্রশাসক হিসেবে এখানে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য আনন্দের। কারণ, এটা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল।’ লালপুরের ইউএনও শামীমা সুলতানা বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, নারী কর্মকর্তা এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু আমি মনে করি, নারী কর্মকর্তা মানেই একটি ইতিবাচক ও শক্তিশালী শব্দ।’
নাটোর সদর উপজেলার ইউএনও সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘এটা নিশ্চই আমাদের জন্য সৌভাগ্য। অসহায় নারীরা যখন বিশ্বাস নিয়ে আমাদের কাছে আসেন, আমাদেরকে আপন মনে করে তাদের সব সমস্যার কথা অকপটে খুলে বলেন এবং ভরসা করেন ন্যায়বিচার পাওয়ার, তখন একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশান্তি পাই এবং সকল পরিশ্রম সার্থক বলে মনে হয়।’ শুধু এই ৭ ইউএনওই নন, নাটোরের সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিচারক এমনকি ২টি পৌরসভার মেয়র হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিশ্বের সকল নারীদের জন্য সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভ কামনা জানাচ্ছি!

শেয়ার করুন :

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এই রকম আরোও খবর