আজ- বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Shotto Barta Logo

শিরোনাম

নাটোরে ধর্ষণ মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা !

সত্যবার্তা ডেস্ক :

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় স্যাপার কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণ করার দায়ে ৪ জনকে দশ বছর করে আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই আদেশ দেন।

দন্ডিতরা হলেন-লালপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মহরম আলীর ছেলে তুষার আলী (১৮), রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার শ্রীবর্তিপাড়া এলাকার ওবায়দুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেন (১৭), নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পুর্ব মাধনগর গ্রামের সালাম পিয়নের ছেলে তুষার ইমরান ও তাদের সহযোগী ভিকটিম নাসরিন সুলতানা নদীয়ার বান্ধবী লালপুর উপজেলার পুকুরপাড়া এলাকার এন্তাজের মেয়ে মোছাঃ মেঘলা খাতুন ওরফে ছাফিয়া।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্যাপার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তুষার আলী একই কলেজের ছাত্রী নাসরিন সুলতানা নদীয়া (১৬) প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করত। কিন্তু নদীয়া তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে আসছিল। নাসরিন সুলতানা নদীয়া প্রতিদিন কলেজে আসার সময় তার বান্ধবী মোছাঃ মেঘলা খাতুন ওরফে ছাফিয়াকে সাথে নিয়ে আসতো। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ১২ জুলাই কলেজ ছুটির পর নদীয়ার বান্ধবী মোছাঃ মেঘলা খাতুন ওরফে ছাফিয়ার মাধ্যমে ভিকটিম নাসরিন সুলতানা নদীয়াকে বেড়ানোর নাম করে সিএনজিতে যাওয়ার সময় নেশা জাতীয় কিছু পান করায়। এতে নদীয়া জ্ঞান হারায়। এ সময় অচেতন নদীয়াকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তুষার, ইমন ও ইমরান তিন বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের সহযোগী মেঘলা খাতুন ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে নদীয়ার ছোট ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেখায় এবং ওই ভিডিও ভাইরাল করার কথা বলে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নদীয়াকে নিয়মিত ধর্ষণ করতে তারা। তাদের পাশবিক অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে ২০১৭ সালের ৬ আগষ্ট নদীয়া হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় তাকে বগুড়ার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নদীয়া সুস্থ হওয়ার পর ঘটনাটি তার বাবা-মাকে বলে দিলে তার মা রশিদা বেগম একই বছরের ২৪ আগস্ট বাগাতিপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ চাজশীট দাখিল করলে আদালত সাক্ষ্য প্রমানের পর বুধবার অভিযুক্ত চারজনকে ১০ বছর করে আটকাদেশ রাখার নির্দেশ দেন।

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (এসপিপি) আনিছুর রহমান বলেন, শিশু আইনে দলবদ্ধ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের আটকাদেশ। আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ায় বাদী সন্তুষ্ট।

আসামি পক্ষের আইনজীবী লোকমান হোসেন বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

শেয়ার করুন :

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এই রকম আরোও খবর