আজ- বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Shotto Barta Logo

শিরোনাম

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন : দুই প্যানেলেই অনৈক্যের ডাক!

সত্যবার্তা ডেস্ক :

 

 

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনজীবী সমিতি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫-১৬ মার্চ। ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে ২০২২-২৩ সেশনের কার্যকরী কমিটির এই নির্বাচন। আইনজীবী ও বারের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রæতি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। চেম্বার টু চেম্বার, আদালত পাড়ার এজলাস, বাদ যাচ্ছে না কোনো জায়গাই। সব জায়গায় প্রার্থী নিজে অথবা তাদের প্রতিনিধি ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে আওয়ামী ও বিএনপিপন্থি পৃথক দুটি প্যানেলে প্রতি বছর প্রার্থী দেয়া হয়। তবে এবার এই দুই প্যানেলের বাইরে পৃথক প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে রয়েছেন অনেকে। এ কারণে এ নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

প্রতি বছর কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে আইনজীবীদের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আগামী ১৫ ও ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে শেষ সময়ে এসে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে নানা সমীকরণ চলছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২২-২৩ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পায়। ২৩টি পদের বিপরীতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৭টি পদে জয় পেয়েছে সাদা প্যানেল। অন্যদিকে দুটি সম্পাদকীয়সহ ৬ পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল জয় পায়। তবে এখানে কী হয় বলা যায় না। বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল মনে করে ঢাকা বারে কারচুপি ও জোর করে পদ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বারে এমনটি করা কঠিন হবে। ভোট স্বচ্ছ হলে নীল প্যানেল বেশির ভাগ পদে জয়ী হবে। তবে সাদা প্যানেলের আইনজীবীরা মনে করেন, এবার তারা ঢাকা বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট বারেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। কেননা সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে সাদা প্যানেলের প্রতি আস্থা বেড়েছে। তাছাড়া এবার বিএনপি- জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা দ্বিধাবিভক্ত। জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা এখানে পৃথক প্যানেলে নির্বাচন করছেন।
জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্দিতা

করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের ১৪ জন, বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের ১৪ জন এবং কয়েকজন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে আছেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির সভাপতি ও এডভোকেট মো. আব্দুন নূর দুলালকে সম্পাদক করে ভোটের মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। এডভোকেট মমতাজ উদ্দিন বারের সাবেক সম্পাদক ও সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের পক্ষে সভাপতি পদে ভোট করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। যিনি এই সমিতির সাবেক সম্পাদক ছিলেন। সম্পাদক হিসেবে মাঠে নেমেছেন বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে ভোটে অংশ নিচ্ছেন ব্যারিস্টার ড. মো. ইউনুছ আলী আকন্দ ও সহসভাপতি পদে ফরহাদ আহমেদ ভূঁইয়া। সাদা প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মো. শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসাইন, ট্রেজারার পদে ড. মো. ইকবাল করিম, সহসম্পাদক পদে এ বি এম হামিদুল মিসবাহ, মো. হারুন অর রশিদ। সদস্য পদে ফাতেমা বেগম, হাসান তারেক, মুনমুন নাহার, শফিক রায়হান শাওন, শাহাদাত হোসাইন (রাজিব), সুব্রত কুমার কুণ্ডু।
অন্যদিকে নীল প্যানেলে সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আসরারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল হোসেন, সহসম্পাদক মাহফুজ বিন ইউসুফ, মাহবুবুর রহমান খান। সদস্য পদে গোলাম আক্তার জাকির, মঞ্জুরুল আলম সুজন, ব্যারিস্টার মাহাদিন চৌধুরী, ফাতিমা আক্তার, ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, মোস্তফা কামাল বাচ্চু, আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের বাংলাদেশ ল’ইয়ারর্স কাউন্সিলের কাউকে কোনো পদে মনোয়ন দেয়নি বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
জানা গেছে, পদপদবি নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হয়নি। যার কারণে এবার জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী ছাড়াই প্যানেল ঘোষণা করেছে নীল প্যানেল। বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতাদের দাবি এবার জামায়াতের যোগ্য কোনো প্রার্থী ছিল না। তবে জামায়াতের দাবি, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে তিনবার সহসভাপতি ও একবার সহসম্পাদক পদে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। তাহলে এবার কেন বাদ দেয়া হলো তাদের? যোগ্য প্রার্থী নাকি অন্য কোনো কারণ- এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, এবারের নির্বাচনে তাদের আগেই বলেছিলাম সহসভাপতি পদে ও সদস্য পদে প্রার্থী দিতে। তাদের কাছে প্রার্থী চাওয়াও হয়েছিল। কিন্তু এই পদে জামায়াতের আইনজীবীরা যোগ্য কোনো প্রার্থী দিতে পারেননি। তারা আমাদের কাছে সহসম্পাদকের একটি পদ চেয়েছিলেন। যার কথা বলেছিলেন আমরা তাকে এ পদে যোগ্য মনে না করায় মনোয়ন দেইনি। তিনি বলেন, আমরা তাদের মনোনয়ন জমা দেয়ার সময়ও বলেছি, প্রত্যাহারের শেষ সময়ে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি।
জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী এডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, আমরা বিএনপির কাছে মাত্র একটি সহসম্পাদক পদ চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেয়নি। গত তিন বার আমাদের ৩ জন প্রার্থী সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। একজন সহসম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এবার বিএনপি আমাদের আবদার রক্ষা করেনি। এমনকি কোনো আলোচনাও করেনি। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিঠু বলেন, আমাদের সঙ্গে বিএনপির জোট আছে, থাকবে। এবারের নির্বাচনে আমাদের দেয়া প্রার্থী হয়তো তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি, এজন্য তারা দেননি। গত বুধবার রাতে জামায়াত সমর্থিত ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্ট শাখা নির্বাচনে সহসভাপতি ও সহসম্পাদক পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী কর্মিসভা করেছে। সহসভাপতি পদে মঈন উদ্দিন ফারুকী ও সহসম্পাদক পদে আব্দুল করিম নির্বাচন করবেন।
এদিকে আওয়ামী সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছিলেন হেভিওয়েট দুই নারী আইনজীবী। সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ও সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। কিন্তু তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়নি। পরে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম. আমীর উল ইসলামের মেয়ে। অন্যদিকে এডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী। এডভোকেট যুথি মনোনয়ন বোর্ডের কাছে অভিযোগ করেছেন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার নাম সম্পাদক প্রার্থীর তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই দুই নারী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন বাতিল করার দাবি জানান। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যের ব্যানারে ‘তলবি সাধারণ সভা’ করেছে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ। সভায় কয়েকশ আইনজীবীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন বাতিল করার দাবি জানানো হয়। ওই সভার সভাপতি শাহ আহমেদ বাদল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওই চিঠিতে নির্বাচন বাতিল করার পাশাপাশি গৃহীত অপর দুটি সিদ্ধান্ত হচ্ছে, নির্বাচন উপকমিটি বাতিল ও দ্রুত নির্বাচনের জন্য ৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা। ফলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যেও অনৈক্যের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে বলে জানান সাধারণ আইনজীবীরা।

সংকলিত

শেয়ার করুন :

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এই রকম আরোও খবর

সাক্ষাৎকার