অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, 'এই সরকার কিন্তু কোনো দলের পক্ষে নয়। এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি।'

আজ শনিবার দুপুরে ভোলা বালক সরকারি স্কুল মাঠে ভোটের গাড়ি ‌‌‌'ক্যারাভান' উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০৮ সালে। এর পরে আসলে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। যাদের বয়স ৩০ বা এর আশেপাশে তারা সত্যিকার অর্থে কখনো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।'

সরকার চায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক থাকুক উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন যে, আমরা পর্যবেক্ষকদেরকে আহ্বান করেছি সমস্ত পৃথিবী থেকে। ইইউ, আমেরিকার রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট তারা প্রত্যেকেই কিন্তু পাঠাবে এবং নেতৃত্বে যারা আসবে তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমরা বলেছি সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দেবো। একটি কথা আরও বলেছি, আগেরবারেও বলেছিলাম যখন প্রতীকী নির্বাচন হয়েছিল, সরকার আপনাদেরকে কোনো সাহায্য করতেও যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা না চাইবেন। কারণ সরকার যদি এগোয় তাদের ব্যাপারে, তাহলে মনে করা হবে যে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা সেটা এক বিন্দুও করব না। আমরা দেখব তাদের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়। এরপর তারা যদি কোনো ক্ষেত্রে সহায়তা চান, সে ক্ষেত্রে আমরা সেই সহায়তা দেবো। সরকারের এই হচ্ছে ভূমিকা।'

তৌহিদ বলেন, 'পর্যবেক্ষক কারা হবেন সেটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। সরকারের কিন্তু এখানে কোনো ভূমিকা নাই। পর্যবেক্ষক সংস্থা কমিশনে আবেদন করেছে। সেখান থেকেই তারা (ইসি) যাদেরকে নিরপেক্ষ মনে করে, মনে করে যে তারা ভোটের মধ্যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না, তাদেরকে অনুমোদন দেবে এবং তারাই আসবে। আমরা চাই বিপুল সংখ্যক অবজারভার থাকুক, যাতে করে নির্বাচনের সময় যেন কেউ কোনো গণ্ডগোল করার সুযোগ না পায়।'

'আসলে মানুষ মুখিয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য। কারণ তারা দীর্ঘদিন ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আশা করব, এবার অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে ভোট অনুষ্ঠিত হবে,' যোগ করেন তিনি।

তৌহিদ আরও বলেন, 'যেকোনো নির্বাচনেই ছোটখাটো কিছু গণ্ডগোল হয়। এটা আমাদের মতো বয়স যাদের, আমরা দেখে আসছি গত ৫০ বছর যাবত। আর যারা আমাদের চেয়ে একটু কম, তারাও দেখেছে। মূল জিনিসটা হচ্ছে যে, মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয় কি না নির্বাচনে। এটা হলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। গত তিনটি কথিত নির্বাচনে সেটা প্রতিফলিত হয়নি আপনারা সবাই জানেন। এটাই হলো মূল পরিবর্তন, আমরা আশা করব যে, সেটা ঠিকঠাক এবার হবে।'