ঘন কুয়াশায় টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে তিনটি যাত্রীবাহী বাস। এতে ২৮ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া, ঝিনাইদহে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে প্রাইভেট কার ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ২২ যাত্রী আহত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১১ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এবং একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হরিপুরে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের একটি বাস প্রান্তিক পরিবহনের অপর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঘাটাইল ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা রতন চন্দ্র দেবনাথ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘন কুয়াশা ও ওভারটেকিং এই দুর্ঘটনার কারণ।'

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শিশুতোলা বাজারে একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকে যাওয়ার ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ ঘটনা নিহত হয়েছেন চায়ের দোকানদার ইব্রাহিম হোসেন (৭০)। তিনি রাখালভোগা গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে।

আহতরা হলেন রাখালভোগা গ্রামের বাবলু মণ্ডল, ফতেপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম খুদে ও কদমতলা গ্রামের নাসির উদ্দিন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে ধাক্কা মারে। এতে দোকানদারসহ চারজন গুরুতর আহত হন। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে ইব্রাহিম হোসেনের মৃত্যু হয়।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, টায়ার ফেটে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।

তিনি জানান, এ ঘটনা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঘন কুয়াশায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ী ব্রিজ এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় নারীসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার ভোররাত পৌনে ১টার মাওয়ামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার গাউস শিকদারের ছেলে নিয়ামত, টুঙ্গিপাড়ার রম্বু খলিফার ছেলে ইয়াছিন, বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার আবেদ আলীর ছেলে হায়দার আলী, সোনা মিয়ার ছেলে আমেদ মিয়া, আসাদুজ্জামানের স্ত্রী জুলেখা আক্তার ও মাসুদ মিয়ার ছেলে রেজবি মিয়া।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় কবলিত টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের বাসটি হাসাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।