শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মামলার প্রধান আসামি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানকে গতকাল বুধবার শরীয়তপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, মৃত জামশেদ আলীর নাতি জুবায়ের হোসেন পালং বুধবার রাতে মামলা করেন। এতে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খান, চালক সাজিব, পারভেজ ও হান্নানসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলব...
শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার প্রধান আসামি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানকে গতকাল বুধবার শরীয়তপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মৃত জামশেদ আলীর নাতি জুবায়ের হোসেন পালং বুধবার রাতে মামলা করেন। এতে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খান, চালক সাজিব, পারভেজ ও হান্নানসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে জামশেদ আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সস ইনস্টিটিউটে রেফার্ড করেন।
রোগীর স্বজনেরা সাড়ে ৬ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। সেসময় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা অতিরিক্ত দুই হাজার টাকাসহ ৮ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন।
রোগীর স্বজনেরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পাঁচ হাজার টাকায় ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন রোগীর স্বজনেরা। সেসময় সিন্ডিকেটের সদস্যরা জানান, হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে হলে দুই থেকে চার হাজার টাকা দিতে হবে।
পরে হাসপাতাল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে চৌরঙ্গী মোড় থেকে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটি থামিয়ে দেন অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা। একপর্যায়ে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে কিছু সময় পর অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
পথে জাজিরা উপজেলার জামতলা এলাকায় আবারও দুটি গাড়ি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির পথরোধ করেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সুমন খানের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সচালক ও হেলপারকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে বিকেল ৩টার দিকে জামশেদ আলী মারা যান। আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্সস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. সালমান বলেন, 'অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণে আমাদের দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে রোগী মারা যেত না।'
তিনি বলেন, 'তাদের অনুমতি ছাড়া রোগী নেওয়ায় আমাকে ও আমার হেলপারকে মারধর করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ঢাকা থেকে রোগী নিতে এলে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীরা প্রায়ই বাধা দেন। দুই থেকে চার হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। তাদের অনুমতি ছাড়া রোগী তুলতে পারি না।'
জামশেদ আলীর নাতি জুবায়ের হোসেন বলেন, 'ওদের ভয়ে আমরা চৌরঙ্গী মোড়ে নিয়ে দাদাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলেছিলাম। পথে দু'বার বাধা দেওয়ার কারণেই আমার দাদা মারা গেছেন। আমরা জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।'
শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আবদুল হাই মোল্লা বলেন, 'অ্যাম্বুলেন্স বাধা দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে অন্য জেলা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স থামানোর অধিকার কারও নেই। এ বিষয়ে যদি শরীয়তপুরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী জড়িত থাকেন, তাহলে তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।'
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণে কোনো সরকারি নীতিমালা নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।'