আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে নির্বাচনী সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সরকার বারবার সুন্দর কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে তা কার্যকরভাবে দেখা যাচ্ছে না।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অভিযোগ জানায় দলটি। ওই বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এসব বলেন।

তিনি বলেন, 'এখানে নির্বাচনী সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না। একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে তারা, তাদের কোনো অ্যাকশন নাই। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না, হয়রানি করার জন্য আবার তাদের জরিমানা, নোটিস ও নানা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কমিশনকে আমরা বলেছি, এটা বন্ধ করতে হবে।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'সরকার বারবার সুন্দর সুন্দর কথা বলছে, কিন্তু ফিল্ড লেভেলে কার্যকরভাবে আমরা দেখছি না। দেশের সরকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে আহ্বান জানাব,  আসুন সবাই মিলে একটা সুন্দর নির্বাচন করি। সুন্দর নির্বাচনে যেমন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার, সেখানে আপনারা উদ্যোগী হন, পদক্ষেপ নেন।'

'প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না' উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, 'তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা। এখন প্রচার-প্রচারণা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বেশ কিছু এলাকায় প্রার্থীরা, বিশেষ বিশেষ কিছু দলের প্রার্থী অবাধে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

'আবার আমাদের দলের প্রার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় সংগঠনের অভিযোগ, বাস্তব ঘটনাও তাই, তারা নির্বাচনী প্রচারণা করছেন না, দলীয় সভা-সমাবেশ করছেন—এটা নির্বাচনে বাধা নয়। সেই জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। কিন্তু অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে না।'

হামিদুর রহমানের অভিযোগ, 'স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা হয়রানি করছেন। আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি, কাগজের স্তূপ পড়ে আছে, কোনো অ্যাকশন নেই।'

'জনগণ যখন দেখে এই গবর্মেন্ট ও কমিশনের সহায়তায় কেউ বিশেষ সহায়তা বা সুবিধা পাবে, তা এই নির্বাচনে ভোটারদের ওপর ইনফ্লুয়েন্স তৈরি করবে। এটা ইনজাস্টিস, এটা অন্যায়। এটা বন্ধ করতে হবে,' যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, 'আপনি নিরাপত্তা দেন, সবাইকে দেন। আমরা চাই সব দলের প্রধান ও যারা দলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা চেয়েছে, সবাইকে এটা এনসিওর করতে হবে। আপনি কাউকে দিবেন, কাউকে দিবেন না, তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না, নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না।'

তার ভাষ্য, 'সরকারি অর্থায়নে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা নিশ্চিত করতে হবে।'

অতীতে নির্বাচনের আগে ১০ টাকার চাল, ঘরে ঘরে চাকরি এই আশ্বাসের মতো এখন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিলি করা হচ্ছে জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, 'এখন একই স্টাইলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, নানা কার্ডের বাহানা দিয়ে ডেমি কার্ড বানিয়ে ঘরে ঘরে বিলি করা হচ্ছে। এসব কার্ডে সুবিধা দেওয়া হবে। আমরা কমিশনকে বলেছি যে, এটা বন্ধ না করলে ভোটাররা প্রতারিত হচ্ছে।'

মনোনয়ন প্রার্থিতা আপিলের ক্ষেত্রে অন্যায় হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'ঋণ খেলাপির ব্যাপারে একই প্রশ্ন উঠেছে, কোথাও বৈধ হয়েছে, কোথাও না। আর আমিওতো এটার শিকার। তবে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। যারা এই ইনজাস্টিসগুলো করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।'

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এগুলো বাধা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'বহুদিন, বহু হয়রানি ও জুলুমের পর দেশে একটা নির্বাচন হচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটা অনেক, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পরে প্রত্যাশা বেড়েছে।'

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপির অভিযোগ দলের নাম ও প্রতীক ভাঁজে পড়েছে এবং বিএনপি ইসিকে আজ এ নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, 'এখন যদি নির্বাচন কমিশন তেমন কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে, সে অনুযায়ী যদি সিরিয়াল করে এখানে আপত্তির কিছু নাই। এগুলো একেবারে লেম এক্সকিউজ। এগুলো নিয়ে কোনো দলই অভিযোগ করছে বলে আমরা মনে হয় না।'

জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, 'এই অভিযোগটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ, বাহরাইনের আইন তাদের দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা সাপোর্ট করে না, অ্যালাউ করে না। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে বলা আছে, বিদেশে রাজনৈতিক দলের কোনো শাখা থাকতে পারবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে আমরা অলওয়েজ এটা মেনটেইন করেছি।'

'যদিও মিডিয়াতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দলের শাখা আমরা দেখি। এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। যেখানে আমার দলের কমিটি নেই, সেখানে রাজনৈতিক নেতা হওয়ারতো প্রশ্নই ওঠে না। সেই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর কোনো সুযোগ নেই,' যোগ করেন তিনি।