টাঙ্গাইলে ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: জামায়াত নেতার অস্বীকার
টাঙ্গাইলের মেঘার পটল গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার সময় এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এই হামলা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের, যদিও স্থানীয় জামায়াত নেতারা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার উপজেলার মেঘার পটল গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে টাঙ্গাইল যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেঘার পটল গ্রামের নাজমুলের বাড়িতে ভোট চাইতে যান প্রতিবেশী শহিদুলসহ আরও তিনজন। বাড়িতে সে সময় কেউ না থাকায় গৃহবধূ তাদের চলে যেতে বলেন। তবে অভিযুক্তরা তাকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। গৃহবধূ যখন জানান যে তিনি ভোটার নন এবং তার পরিবারের সদস্যরা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থক, তখনই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
আদালতে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গৃহবধূর রাজনৈতিক অবস্থানে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত শহিদুল তাকে জাপটে ধরেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য সহযোগীরাও তার ওপর চড়াও হন। গৃহবধূর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই নারীকে পরবর্তীতে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজন হলেন—শহিদুল, সোহেল, এনামুল এবং আল আমিন। তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই বানোয়াট গল্প সাজানো হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেমরাজুল ইসলাম রুবেল জানিয়েছেন, তারা অভিযোগের বিষয়টি হাতে পেয়েছেন। শ্লীলতাহানির মতো স্পর্শকাতর এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হবে।