ময়মনসিংহে দিপু হত্যা: ৬ আসামি আরও ২ দিনের রিমান্ডে
ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ আসামির ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ রোববার দুপুরে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেন এ আদেশ দেন।আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, 'আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি হয়। আদালত ৬ আসামির প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।'আসামিরা হলেন- তাকবির (২২), রুহুল আমিন (৪২), নূর আলম (৩৩), মো. শামীম মিয়া (২৮), সেলিম মিয়া...
ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ আসামির ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রোববার দুপুরে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেন এ আদেশ দেন।
আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি হয়। আদালত ৬ আসামির প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।'
আসামিরা হলেন- তাকবির (২২), রুহুল আমিন (৪২), নূর আলম (৩৩), মো. শামীম মিয়া (২৮), সেলিম মিয়া (২২) ও মাসুম খালাসী (২২)।
গত বৃহস্পতিবার ৬ আসামির প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিল পুলিশ। গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভালুকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা ফ্যাক্টরিতে উপস্থিত কর্মচারীদের উসকানি, স্লোগান দিয়ে ফ্যাক্টরির বাইরে ঘটনাটি ছড়িয়ে দেওয়া এবং দিপুকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।'
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার মোট ১২ জনের প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে কারখানার ভেতরে একদল শ্রমিক দিপুকে মারধর শুরু করেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা দিপুকে কারখানার বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মরদেহ আংশিক পুড়ে যায়। পুলিশ পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
দিপু হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার নিহতের ভাই ১৪০-১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে এবং পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তত্ত্বাবধান করছেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তদন্তে নেমে এ ঘটনায় 'ধর্ম অবমাননা'র কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান গত ২০ ডিসেম্বর জানান, নিহত ব্যক্তি ধর্ম অবমাননা করে ফেসবুকে কিছু লিখেছেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেও এমন কিছু পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, 'সবাই এখন বলছেন, তারা তাকে (দিপু) এমন কিছু বলতে নিজেরা শোনেননি। (ধর্ম অবমাননার বিষয়ে) নিজে শুনেছেন বা দেখেছেন এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।'