না ফেরার দেশে বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা এবং প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ (রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস) পরলোকগমন করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে ক্যানসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত এই অভিনেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মাধ্যমে একটি বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমায় শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে দেশজোড়া খ্যাতি অর্জন করা এই তারকা শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা ও প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘকাল ক্যানসার ও হৃদরোগের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। জাভেদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র জগতের সংশ্লিষ্ট সনি রহমান। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন নিভৃতে ছিলেন এই অভিনেতা; এর আগে তিনি দুইবার হার্ট অ্যাটাকও করেছিলেন। তার প্রয়াণে ঢাকাই চলচ্চিত্রের একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী, যার প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। শুরুতে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমাটি তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এই ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে তার অনবদ্য অভিনয় আজও চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
একজন তুখোড় অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি জাভেদ ছিলেন এদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ড্যান্সিং হিরো। তার নাচের ছন্দ ও অভিব্যক্তি সে সময় দর্শকদের দারুণভাবে মোহিত করত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে ‘নিশান’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিনয় ও নৃত্য পরিচালনার এই মেলবন্ধন তাকে সমসাময়িক অন্যান্য নায়কদের চেয়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রের এই প্রবীণ অভিনেতার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সহকর্মী এবং অগণিত ভক্তরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। তার এই চলে যাওয়া ঢাকাই সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।