‘কেউ আর অগো চকলেট-চিপস খাইতে কইব না’
'সাগর সারা দিন ইজিবাইক চালাইতো, রাইতে দুইটা বাচ্চার লাইগা চিপস আর চকলেট নিয়া আইতো। অগোরে দিয়া কইতো, নেও আব্বা খাও। কিন্তু এখন কেউ আর অগো চকলেট-চিপস খাইতে কইব না। তাহলে এই বাচ্চা দুইটার কী হইব, কে ওগো দেখব?' কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইজিবাইক চালক সাগরের শ্বশুর নুরুজ্জামান কাজী। গতকাল রোববার বিকেলে সদর উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন বাসের অন্তত ১০ যাত্রী। নুরুজ্জামান মোবাইল ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাত বছর আগে সাগর ব্যাপ...
'সাগর সারা দিন ইজিবাইক চালাইতো, রাইতে দুইটা বাচ্চার লাইগা চিপস আর চকলেট নিয়া আইতো। অগোরে দিয়া কইতো, নেও আব্বা খাও। কিন্তু এখন কেউ আর অগো চকলেট-চিপস খাইতে কইব না। তাহলে এই বাচ্চা দুইটার কী হইব, কে ওগো দেখব?'
কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইজিবাইক চালক সাগরের শ্বশুর নুরুজ্জামান কাজী। গতকাল রোববার বিকেলে সদর উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন বাসের অন্তত ১০ যাত্রী।
নুরুজ্জামান মোবাইল ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাত বছর আগে সাগর ব্যাপারীর লগে আমার মেয়ে আফরোজা বেগমের বিয়া দিই। খুব সুখে শান্তিতে চলতেছিল অগো সংসার। কখনো দুইজনরে ঝগড়া করতে দেখি নাই। আল্লায় অগো সুখের সংসারে দুইটা সন্তান দিছে।'
তিনি বলেন, 'আমার বড় নাতি আবদুল্লার বয়স পাঁচ বছর আর ছোট নাতি ইউসুফের বয়স তিন বছর। সাগর আমার নাতি দুইটারে অনেক ভালোবাসতো। নাতি দুইটা সাগররে ছাড়া কিছু বুঝতো না।'
'গত শুক্রবার সবশেষ সাগরের লগে আমার সাথে কথা হইছিল। আমি এক বিয়ের বরযাত্রীর দাওয়াত পাইছিলাম। কিন্তু সেই দাওয়াতে আমি না যাইয়া সাগররে পাঠাইছিলাম। এরপর আর কোনো কথা হয় নাই। আর কখনো কথা হইব না। এখন আমার মেয়ের সংসারটা কে দেখব?
গতকাল সন্ধ্যার পর তিনি জানাচ্ছিলেন, ইজিবাইকে করে সাগরের লাশ নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন। রাতেই দাফন করা হবে।
মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মাদারীপুরে বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসের হেলপারসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর ইউনিয়নের মিলগেট এলাকায় সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওসি জানান, দুর্ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। আহত ১০ জনের মধ্যে কয়েকজন মাদারীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিচ্ছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলমান ছিল। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া তিনজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।