চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। 

আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শুনানি শেষে গ্রেপ্তার আসামিদের  উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী ও মহানগর দায়রা আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শুনানির পর চিন্ময়সহ গ্রেপ্তার সব আসামির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে ৩০২ এবং ১০৯ ধারায় এবং অন্য ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই মামলায় ৩৯ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন কারাগারে এবং বাকি ১৬ জন পলাতক।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির (সিডিবিএ) সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার বলেন, আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন ঢাকার আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য্য।  বাদী ও আসামি দুই পক্ষই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে এবং শুনানির পর আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

চিন্ময়ের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কোর্ট হিল প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তাদের প্রায় ৯০০ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া, মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাব ও সেনা সদস্যদেরও।

সকাল থেকে কোর্ট হিলের দুটি প্রবেশপথে পুলিশ তল্লাশি চালায় এবং আইনজীবী ও অন্যান্যদের পরিচয়পত্র যাচাই করে। 

চিন্ময় ও অন্যান্য আসামিদের সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিশাল নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতে চিন্ময় তার বক্তব্যে মামলার আরও তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন যে আলিফ হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিএমপির কোতোয়ালি জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মাহফুজুর রহমান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

ভাঙচুর, হামলা ও সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর আক্রমণসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আর অজ্ঞাত আসামি করা হয় এক হাজার ৪০০ জনকে।

পরে আলিফের বাবা জামাল ৩১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তার ভাই খান-ই-আলম কোতোয়ালি থানায় ৭০ জন আইনজীবীসহ ১১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আরেকটি মামলা করেন।