২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিলের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও জিয়াউর রহমানের ঘোষণাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইতিহাস বিকৃতি রোধে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের বীরত্বগাথা ও সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ইতিহাস স্বয়ম্ভু এবং এটি নিজের বিবর্তনের ধারায় জন্ম নেয়, তাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তি মনগড়াভাবে ইতিহাস রচনা করতে পারে না।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্বকে এক 'অবিনাশী সত্য' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে যুদ্ধের পথ দেখিয়েছিল। ১০ই এপ্রিল প্রবাসী সরকারের নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণেও এই বিদ্রোহ ও ঘোষণার স্বীকৃতি রয়েছে বলে তিনি জানান। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, তৎকালীন ৩২ বছরের তরুণ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমানের ‘আই রিভোল্ট’ বলে সম্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়া ছিল ইতিহাসের এক চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তে সাহসী পদক্ষেপ।
বর্তমান সময়কে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিটিজেন জার্নালিজমের যুগ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন আর ইতিহাস বিকৃত করার বা সত্য লুকিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ইতিহাস বিকৃতির যে অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তা বর্তমান যুগে আর সম্ভব নয়। জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাকে একই সূত্রে গাঁথা বলে তিনি মন্তব্য করেন। ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।