তিস্তার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে পরিবেশ উপদেষ্টা ও চীনের রাষ্ট্রদূত
তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ–দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।আজ সোমবার দুপুরে কাউনিয়া সেতুসংলগ্ন তিস্তার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো নৌকায় করে ঘুরে দেখেন তারা। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চীনা রাষ্ট্রদূতকে নদীর ভাঙনের মাত্রা, চরাঞ্চলের বাস্তবতা এবং নদীশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এসময় দুই দেশের উন্নয়ন, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও জলব...
তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ–দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
আজ সোমবার দুপুরে কাউনিয়া সেতুসংলগ্ন তিস্তার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো নৌকায় করে ঘুরে দেখেন তারা। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চীনা রাষ্ট্রদূতকে নদীর ভাঙনের মাত্রা, চরাঞ্চলের বাস্তবতা এবং নদীশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এসময় দুই দেশের উন্নয়ন, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা নদীপারের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে তারা নিঃস্ব হচ্ছেন। ত্রাণ নয়, তারা নদীর স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই সমাধান চান।
ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহার আলী (৬৫) বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে শুধু নদীভাঙনই রোধ হবে না, আমাদের জীবনযাত্রার মানও বদলে যাবে।'
তবে কোহিনুর বেওয়া (৬০) নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, 'আমরা শুধু প্রতিশ্রুতিই পাচ্ছি, বাস্তবায়ন দেখছি না। তিস্তার ভাঙনে আমরা সবকিছু হারিয়েছি। আমাদের কষ্টকে পুঁজি করে অনেকে লাভবান হয়েছেন। এবার আশা করছি আমাদের কষ্ট দূর হবে।'
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে এবং তারা এ বিষয়ে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের সফর সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।'
তিনি বলেন, 'তিস্তাপারের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। বর্তমানে প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক সমীক্ষা চলছে। আমরা বন্ধুপ্রতিম চীনের সঙ্গে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছি।'
উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে প্রকল্পটি নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা চলমান রয়েছে। একটি হচ্ছে কারিগরি দিক—ফিজিবিলিটি স্টাডি শতভাগ সঠিক ও কার্যকর কি না, তা যাচাই করা। অন্যটি হচ্ছে আর্থিক দিক—এই বিশাল বিনিয়োগ চীন সরকারের জন্য কতটা টেকসই হবে, সে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, 'চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবসময় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আজকের এই পরিদর্শন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।'
তিনি আরও বলেন, টেকসই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ নেই বলেও জানান তিনি।