জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৯৭ মাজারে হামলা, মামলা হয়েছে ১১টি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরে সারাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। এর মধ্যে ১০টি মামলার তদন্তে 'কোনো অগ্রগতি নেই' বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ' উপস্থাপিত '২০২৪–২৫ সালে সারাদেশে মাজারে হামলা' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, মাজারে হামলার ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং...
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরে সারাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। এর মধ্যে ১০টি মামলার তদন্তে 'কোনো অগ্রগতি নেই' বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ' উপস্থাপিত '২০২৪–২৫ সালে সারাদেশে মাজারে হামলা' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, মাজারে হামলার ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন।
মাকামের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, 'রাজবাড়ীর নুরাল পাগলার মাজারে হামলার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে বাকি ১০টি মামলায় আমরা কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি।'
অন্যান্য অনেক ঘটনায় মামলা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'বেশিরভাগ ঘটনায় মাজারে বসবাসকারীদের মারধর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ফিরে এসে মামলা করার মতো অবস্থায় নেই।'
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হামলা হয়েছে 'তৌহিদি জনতা' ব্যানারে সংঘবদ্ধ জনতার মাধ্যমে, যেখানে রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
মাকামের প্রতিবেদনে ১৩টি হামলার ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা চারটি হামলায় এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা আরও চারটি হামলায় জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হতাহতের দিক থেকে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এখানে দুজন নিহত এবং ১৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে (১৭টি), এরপর নরসিংদীতে (১০টি) ও ঢাকায় (৯টি)।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) উপদেষ্টা আহমেদ ইব্রাহীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'লক্ষ্যবস্তু হওয়া অন্তত ৪৪টি মাজার এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে এবং সেগুলোতে বার্ষিক ওরস বন্ধ রয়েছে।'
গবেষণায় দেখা গেছে, হামলার প্রধান কারণ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, যা মোট ঘটনার ৬১ শতাংশের জন্য দায়ী।
অন্তত ছয়টি ঘটনায় বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাজারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ১০টি ঘটনায় মাইক ব্যবহার করে জনতা জড়ো করা হয়।
প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত মাজারগুলোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা না করায় অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।