টিআইবির লোকজন সব দেখতে পায় না: অর্থ উপদেষ্টা
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, 'টিআইবির লোকজন সব দেখতে পায় না।'তিনি আরও বলেন, 'ওদের তো দিব্য দৃষ্টি নাই বা ভালো দৃষ্টিও নাই। দেখতে চাইলে দেখতে পারে অনেক কিছু।'সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।গতকাল টিআইবি বলেছে যে, এই সরকার দেড় বছরে যত টাকা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে অন্যান্য উন্নয়নে, আসলে ততটা হয়নি—গণমাধ্যমকর্মীরা দৃষ্টি আকর্...
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, 'টিআইবির লোকজন সব দেখতে পায় না।'
তিনি আরও বলেন, 'ওদের তো দিব্য দৃষ্টি নাই বা ভালো দৃষ্টিও নাই। দেখতে চাইলে দেখতে পারে অনেক কিছু।'
সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল টিআইবি বলেছে যে, এই সরকার দেড় বছরে যত টাকা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে অন্যান্য উন্নয়নে, আসলে ততটা হয়নি—গণমাধ্যমকর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। আরও বলেন, 'এখনো কিন্তু আমি টিআইবির বদনাম করছি না। আমি বলি, ফান্ডামেন্টাল জিনিস যেগুলো তোমরা একটু দেখো। আর না দেখার ইচ্ছা থাকলে তো অনেক কিছু করা যাবে।'
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'তাদের প্রত্যাশা নিশ্চিতভাবে আছে। আমরা ভাবতাম যে সংস্কারটা...সংস্কার করতে হলে কিন্তু সবার সহযোগিতা লাগে। প্রসেসটা...আমি ভেতর থেকে দেখেছি, প্রশাসনে এত গলদ! আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না। আমি ভেতরে আছি তো। একটা কিছু করতে গেলেই আমার...তবু তো আমি ফিন্যান্স মিনিস্ট্রির অনেক কিছু ইউজ করে ফেলেছি।'
সচিব ও একজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এরা তাড়াতাড়ি করে দিচ্ছে। আমি ইমিডিয়েটলি সলিউশন দেই। অন্যান্যরা তো পারছে না! দেখেন না, তাদের তো অনেক ফ্রাস্ট্রেশন আছে, অন্য অ্যাডভাইজারের। কারণ আমি যেহেতু আমলাতন্ত্রের, আমি তো সিভিল সার্ভিসের, জানি কীভাবে কী করতে হয়। সবাই তো এটা জানে না।'
'সহযোগিতা না পেলে কিন্তু ডিফিকাল্ট। আমি খোলামেলাভাবে বলি, বাংলাদেশের মতো জায়গা কাজ করা রিয়েলি ডিফিকাল্ট। এখানে প্রসেসগুলো এত কমপ্লিকেটেড এত বেশি ইন্টারভেইন উইথ প্রবলেম—এটাতে জট ছাড়ানো।'
আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'নিশ্চিতভাবেই ব্যুরোক্রেসি একটা পার্ট, সিস্টেমগুলো যেটা করেছে, আইনগুলো যেটা করেছে, তারা ও আইনগুলো ভালোভাবে করে নাই।'
'এই যে দেখেন, ব্যাংকে আমার সময় দুইজন-না তিনজন ছিল, হঠাৎ করে ছয়জন না-কয়জন করে দিলো মালিক। আমি বলবো এগুলো উল্টো রথে যাওয়া। সামনের দিকে যাবেন, পেছনে চলে আসলেন। আমাদের আইনগুলো যে প্রণয়ন হয়, সেগুলো সুষ্ঠুভাবে হয় না,' যোগ করেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আপনি পরবর্তী সরকারের জন্য অর্থনীতি কোন অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন—গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, একটা সন্তোষজনক জায়গায়। সামনে যে সরকার নেবে, ওদের জন্য তেমন কোনো অসুবিধা হবে না।'
অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ ঋণ করেছে—এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালেহ উদ্দিন বলেন, 'সর্বোচ্চ ঋণ শোধও দিয়েছি ছয় বিলিয়ন ডলার।'
'উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে গেছে কারণ আমরা ওই আগের মতো ৮০০ কোটি টাকা দিয়ে কর্ণফুলী টানেল, আমরা তো সেই সাহস করিনি।'
চলমান প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিতে সরকারকে ঋণ নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।