শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিক্ষোভে চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে কর্ণফুলী চ্যানেল দিয়ে বন্দরে আগত ও বহির্গামী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরের মধ্যে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শনিবার থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছিলেন। 

মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মবিরতিতে যান।

গত তিন দিন ধরে বন্দরের প্রধান জেটিকেন্দ্রিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও জাহাজ চলাচল সচল ছিল। 

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, এ ঘটনার ফলে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) নিয়োগপ্রাপ্ত পাইলটরা সাধারণত কর্ণফুলী চ্যানেল দিয়ে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করে জেটি ও সাগরের বহির্নোঙরের মধ্যে আগত ও বহির্গামী জাহাজ পরিচালনা করেন।

আজ সকালের জোয়ারে বন্দরের জেটি থেকে চারটি জাহাজ ছাড়ার এবং বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার কথা ছিল। জাহাজ চলাচলের সময় নির্ধারিত ছিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তবে বিক্ষোভকারীদের বাধার কারণে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি।

সিপিএর পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পাইলটরা জাহাজে ওঠার আগেই বিক্ষোভকারীরা ডক অফিসে আন্দোলন শুরু করেন। 

তিনি বলেন, 'আজ সকালে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে জাহাজ পরিচালনা শুরু করতে আসা সিপিএ পাইলটরা কাজ শুরু করতে পারেননি, কারণ বিক্ষোভকারীরা সহায়ক লজিস্টিক সেবার কর্মী ও কর্মচারীদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন।'

বন্দর সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে ডক অফিসে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সবাইকে ডক অফিস থেকে বের করে দিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।

সিপিএর মেরিন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারীরা সহায়ক জলযান পরিচালনায় নাবিকদের বাধা দেন। অথচ আগত ও বহির্গামী জাহাজ পরিচালনার সময় সিপিএ পাইলটদের জন্য এসব সহায়তা অপরিহার্য।

কর্মবিরতির কারণে বেসরকারি আইসিডি থেকে পর্যাপ্ত রপ্তানি কনটেইনার না পাওয়ায় 'এমএসসি পোলো' নামের একটি জাহাজ সোমবার নির্ধারিত সময়ে বন্দর ছাড়তে না পেরে আজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

তবে নির্ধারিত সিপিএ পাইলটের জন্য প্রয়োজনীয় কাস্টমস কার্যক্রমে বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ায় আজ সকালেও জাহাজটি ছাড়তে পারেনি।

সিপিএ কর্মকর্তারা জানান, আগত জাহাজ আনতে বহির্নোঙরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য পতেঙ্গা এলাকায় আটজন সিপিএ পাইলট দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। তবে বিক্ষোভের কারণে পাইলট বোটগুলো তীরে ভিড়তে পারেনি।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেন, জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।